রাজনীতি

পরিবহন মালিকেরা দেউলিয়া, ৪ দফা দাবি মালিকদের

 বিশ্বব্যাপী মহামারী করোনার দ্বিতীয় ঢেউইয়ের প্রেক্ষিতে লকডাউনে  জনসাধারণের পরিবহন খাতটি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মালিকদের যে পরিমান লোকসান হচ্ছে,  তা করোনা  সংক্রমণের আশঙ্কার চেয়েও বেশি হয়ে গেছে। ঋণগ্রস্ত ও নিঃস্ব  হয়ে যাচ্ছেন অনেক পরিবহন মালিক। এই পরিস্থিতিতে গণপরিবহন খাতের জন্য চারটি দাবি করা হয়েছে।
 
বৃহস্পতিবার  রাজধানীর গাবতলীর বাগবাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ বাস ট্রাক মালিক সমিতির চেয়ারম্যান রমেশ চন্দ্র ঘোষ এ তথ্য জানান।
 
 সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেছেন কঠোর স্বাস্থ্য বিধি মেনে ঈদের আগে  গণপরিবহন চালু করার দাবি জানিয়েছে । 
 
সংগঠনের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, প্রতিদিন কমপক্ষে দুই কোটি মানুষ  গণপরিবহন ব্যবহার করে থাকেন। করোনার সংক্রমণ রোধে ৫ এপ্রিলের পর থেকে করোনার  দ্বিতীয় পর্যায়ে লকডাউনের মালিক-শ্রমিক, কর্মচারীদের পরিবার অনেক কষ্টে  জীবনযাপন করছে।তারা আর্থিক ভাবে অনেক বেশি অসচ্ছল হয়ে পড়ছে । 
 
রমেশ চন্দ্র ঘোষ  এই পরিস্থিতিতে গণপরিবহন খাতের চার দফা দাবি উত্থাপন করে বলেছেন  যে লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও পরিবহন পরিচালনার সম্পর্কিত ব্যয় এখনও চলছে। 
 

দাবিগুলি হ’ল-

  1. করোনার  প্রাদুর্ভাবে, ক্ষতিগ্রস্থ গণপরিবহন মালিকদের গাড়ি মেরামত ও কর্মজীবী ​​শ্রমিক,কর্মচারীদের বেতন ও ঈদ বোনাস পুনর্বাসনের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনার আবেদন ।
  2. গণপরিবহন ব্যবসায় বিনিয়োগের বিপরীতে সমস্ত ঋণ  ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিগত মালিকানাধীন সংস্থার সুদ মওকুফ সহ কিস্তিগুলি ৩০ জুন অবধি মুলতবি  করতে হবে এবংলোন অ্যাকাউন্ট ৩০ শে জুন পর্যন্ত শ্রেণিবদ্ধ না করান আবেদন । 
  3. গণপরিবহন মালিকরা এক শতাংশ ডাউন পেমেন্ট সহ সমস্ত শ্রেণিবদ্ধ লোন  আপডেট করার সুযোগ অব্যাহত রাখতে হবে । 
  4. করোনার  প্রাদুর্ভাবে, ২০২১ সালে, স্বাস্থ্য বিধি মেনে অর্ধেক যাত্রী বহন করার সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে, দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে, আবার এই বিপর্যয়ের সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন  চালু করার আকুল আবেদন । 

 
ঘটনাচক্রে, করোনার দ্বিতীয় আক্রমণ মোকাবেলায় জনসমাবেশ এড়াতে সরকার প্রথমে ৫ থেকে ১১  এপ্রিল পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। পরে, নিষেধাজ্ঞাটি ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। তবে, সেই সময় সরকারী এবং বেসরকারী অফিস, কারখানা এবং গণপরিবহন চালু ছিল।
 
এরপরে সরকার ১৪ ই এপ্রিল থেকে সর্বজনীন লকডাউন শুরু করে, জনসাধারণের পরিবহন এবং দোকানপাট বন্ধ করে দেয়। সরকারের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসারে গণপরিবহন ৫ মে পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

Back to top button