ইসলাম

আমাদের মুহাম্মদ (সা.) যেভাবে কথা বলতেন

একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব ফুটে উঠে তার কথা বার্তায়।কথার মাধ্যমেই  বুঝা যায় একজন মানুষের শিক্ষা দীক্ষা,আচার ব্যাবহার,চরিত্র,মন মানসিকতা ইত্যাদি।সুন্দর কথাবার্তার মাধ্যমে সহজেই শান্তি শৃঙ্খলা নিয়ে আসা সম্ভব।ঠিক তেমনি অসুন্দর ব্যাবহার,অযাচিত কথাবার্তা পরিবেশ নষ্ট করে।সমাজে বয়ে আনে দুর্যোগ।  

মানুষের কথা বার্তা হবে অমায়িক,নম্র ভদ্র,উত্তম ও মার্জিত।এমন ভাবে কথা বলতে হবে,তার পাশে থাকা মানুষটি যেন কষ্ট না পায় ইসলাম আমাদের এই শিক্ষায় দিয়েছে।
তাই আজ আমরা জানব আমাদের প্রিয় নবি হযরত মুহাম্মদ (সা.) কিভাবে কথা বলতেন এবং তিনি মানবজাতিকে ইসলামে কিভাবে কথা বলার আদেশ দিয়েছেন। 
১।নবীজি (সা.) সবসময় হাসি মুখে কথা বলতেন।তিনি দুঃখ কষ্টে কখনই মন খারাপ করে থাকতেননা।তার কথার মাধ্যমে কখনই বুজতে দিতেননা তিনি কষ্টে আছেন।তিনি সবসময় আল্লাহর উপর ভরসা করে থাকতেন।তাই আমরা সবসময় মানুষের সাথে হাসি মুখে কথা বলব।
২।সালাম হল শান্তির প্রতীক।মুহাম্মদ (সা.) কথা বলার পূর্বে সবার আগে সালাম দিতেন।তাঁর কাছে ছোট বড় কোন ভেদাভেদ ছিলনা।তিনি সবাইকে সালাম দিতেন এবং সবার আগেই দিতেন। নবীজি রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় শিশুদের সাথে দেখা হলে আগে তিনি সালাম দিতেন।তাই আমরা সালাম দেওয়ার ক্ষেত্রে ছোট বড় ভেদাভেদ করবনা।
৩। মুহাম্মদ (সা.) এর কথা ছিল অমায়িক।তিনি কথার মাধ্যমে অনেক শত্রুর মন জয় করে নিয়েছিল।তিনি কখনই কথা বলার সময় তাড়াহুড়া করতেন না।সবসময় ধীরে ধীরে কথা বলতেন।তাঁর একটি কথা ছিল অপরটি থেকে আলাদা। তিনি এমন ভাবে কথা বলতেন যাতে তাঁর কথা গুলো বুজতে মানুষের কষ্ট না হয়।
৪।মুহাম্মদ (সা.) সবসময় বিশুদ্ধ ও স্পষ্ট ভাষায়  কথা বলতেন।তাঁর কথা ছিল মাধুর্যময়।তাঁর কথা ছিল বিনয়ী ও অমায়িক।যার কোন তুলনা হয়না।তাঁর আচরণ ছিল অত্যন্ত কোমল।তিনি কখনই কর্কশ ভাষায় কথা বলতেননা। 
৫। মুহাম্মদ (সা.) অনর্থক কথা বলে সময় নষ্ট করতেননা।তিনি সবসময় নেকী হয় এমন কথাবার্তা বলতেন।যেসব কথায় নেকী নেয় এমন আলোচনা কখনই করতেননা।অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা তিনি সবসময় এড়িয়ে চলতেন। 
৬।রাসুল (সা.) কথা বার্তায় সবসময় শালীনতা বজায় রাখতেন।তিনি কখনই অশালীন কথা বার্তা বলতেননা।রাসুল কে কষ্ট দিলেও তিনি কাওকে তিরস্কার বা অভিশাপ দিতেন না।সবসময় মানুষের হেদায়েতের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন। 
৭।মিথ্যা সবকিছুকে ধ্বংস করে।মুহাম্মদ (সা.) জীবনে কখনো মিথ্যা কথা বলেননি।তিনি ছিলেন  অত্যন্ত সত্যবাদী।যার আচার-ব্যাবহার,আদব-আখলাক,সভাব-চরিত্র ছিল সবার চেয়ে আলাদা। তিনি পৃথিবীর সকল মানবজাতির আদর্শ।যার কোন তুলনা হয়না।  
তাই জীবনকে সুন্দর ভাবে গড়ে তুলতে হলে রাসুল (সা.) এর আদর্শ অনুসরণ করতে হবে।মানুষের সাথে সুন্দরভাবে কথা বলতে হবে।যার ফলে দুনিয়া ও আখেরাত উভয় স্থানে সফলতা অর্জন করা সম্ভব। 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button